চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষি খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কৃষক।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা, লাউ, কুমড়া, শশা, মরিচ, বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, পেঁপে ও কলাবাগানসহ বিভিন্ন গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। এতে কৃষকদের স্বপ্নের ফসল এক নিমিষেই পানিতে বিলীন হয়ে যায়।
কৃষকরা জানান, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আসন্ন আমন মৌসুমের চাষাবাদ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেকেই ঋণ কিংবা ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব হারিয়ে এখন তারা নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল হাশেম বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে আমনের বীজতলা ও সবজি চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষ করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।”
উপজেলার ছদাহা, কেওঁচিয়া, নলুয়া, বাজালিয়া, পুরানগড় ও ধর্মপুর ইউনিয়নে সবজি ক্ষেতের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এছাড়া চরতী, খাগরিয়া ও কাঞ্চনা ইউনিয়নে আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ, সারসহ কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভয়াবহ এই বন্যায় উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে।
এদিকে কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো সহায়তা না পেলে আসন্ন আমন মৌসুমের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।