চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) উদ্যেগে বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ পর্যন্ত বাংলা ভূখণ্ডের মুক্তির লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ “আজাদীর ইতিবৃত্ত” এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগঠনের (চাকসু) প্রাঙ্গনে এই মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
‘আজাদীর ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটিতে বঙ্গভঙ্গ, ৪৭এর দেশভাগ, ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ, ২০১৩ ও ১৮ সালের বিভিন্ন আন্দোলন,২৪এর জুলাই আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাছাইকৃত প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও চাকসু মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদকের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের স্থিরচিত্র রয়েছে।
চাকসু মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হারেসুল ইসলাম সহ অন্যান্য সম্পাদকমন্ডুলী।
অনুষ্ঠানে চাকসুর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী বলেন, “অতীত ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রান্তিক মানুষের লড়াই-সংগ্রাম ও সঠিক ইতিহাস চর্চার একটি চ্যালেঞ্জিং। তবে চাকসু কর্তৃক প্রকাশিত ‘আজাদী ইতিকথা’ সংকলনটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন করে তুলতে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।”
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থে ইতিহাস রচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রান্তিক মানুষ ও বিপ্লবীদের প্রকৃত লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস সব সময় উপেক্ষিত থাকে। আল্টিমেটলি প্রান্তিক জনগণের যে ইতিহাস, লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, বিপ্লবীদের জীবনদানের ইতিহাস, আজাদীর যে সংগ্রাম এবং লড়াই তা কোথাও লিপিবদ্ধ হয়নি। বরঞ্চ এটা ঠিক আজাদী যারা চায়, যারা লড়াই সংগ্রাম করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, ধারাবাহিকভাবে এই আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রান্তিক মানুষগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও চালাবে ইনশাল্লাহ।”
সম্প্রতি চাকসুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ তুলে ধরেন জিএস সাঈদ বিন হাবিব। তিনি বলেন, “চাকসুর বর্তমান মেয়াদে লাইব্রেরি ও আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অটোমেশন এবং চিকিৎসাসেবা প্রসারের মতো বহু যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাথে সাথে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রসহ চাকসু ভবন থেকেও বিদায় নিয়েছেন।”
সাঈদ বিন হাবিব আরও বলেন, “আমাদের ইতিহাস সাতচল্লিশ কিংবা একাত্তর থেকে নয় বরং আরও আগে থেকে। চাকসু!”আজাদীর ইতিবৃত্ত” গ্রন্থের মাধ্যমে সেই ইতিহাসটা তুলে এনেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ চমৎকার এই কাজের উদ্যোগের জন্য।”
‘আজাদীর ইতিবৃত্ত’ এর সম্পাদক চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের বলেন, “বঙ্গভঙ্গ, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সেনাশাসন, শাপলা-শাহবাগ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণবিপ্লবকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষোলো শহীদ এবং চব্বিশের শহীদ ফরহাদ ও হৃদয় তরুয়ার সংক্ষিপ্ত তথ্য বিবরণী সংকলন করা হয়েছে এই গ্রন্থে।”