রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়া সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা) অনুদান সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
চুক্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স স্বাক্ষর করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি এই সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জানা গেছে, এই ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল ইউনিসেফের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, এই চুক্তি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩,১৬২ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া মোট ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ অর্থায়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।