শিরোনাম
টেন্ডারে বাদ, পরে অপারেটর—কীভাবে? কুতুবদিয়া-বহির্নোঙরে জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বিরোধ পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ৮ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা গ্রেফতার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চন্দনাইশ পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, চিহ্নিত ৯ ওয়ার্ডের নানা সমস্যা পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ ওয়াগ্গা ইউনিয়নের উন্নয়নে ৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পুনর্বহালের দাবিতে পটিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ জিয়া-খালেদার পর এবার জাতিসংঘে তারেক রহমান গোমদণ্ডী পাইলট মডেল স্কুলে দায়িত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন

পর্যটক হারাতে বসেছে বাঁশখালী ইকোপার্ক, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ও জরাজীর্ণ স্থাপনায় থমকে গেছে পর্যটন

আফনান চৌধুরী, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) / ১৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র বাঁশখালী ইকোপার্ক আজ অবহেলা ও অযত্নে সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় পার্কের অধিকাংশ স্থাপনা এখন জরাজীর্ণ। মূল আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি ছাড়া কার্যত দর্শনার্থীদের জন্য তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। এমনকি সেতুটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে পর্যটকের আগমন।

ইকোপার্ক সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে প্রায় এক হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় বাঁশখালী ইকোপার্ক। এর দেখভালের দায়িত্ব পায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। পার্কে রয়েছে বামের ছড়া ও ডানের ছড়া নামে দুটি বড় হ্রদ। ডানের ছড়ার ওপর নির্মিত প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি ছিল দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া পিকনিক স্পট, দোলনা, টয়লেট, বসার স্থান, স্লিপার, দ্বিতল বিশ্রামাগার, পাখি ও বন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ নানা স্থাপনা থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের একটি হ্রদ কচুরিপানায় ভরে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙা নৌকা কাদাপানিতে ডুবে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় চার কক্ষবিশিষ্ট হিলটপ কটেজ প্রায় পরিত্যক্ত। ভাসমান রিফ্রেশমেন্ট কর্নারের দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। প্রাণী রাখার দুটি বড় খাঁচা খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পার্কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা ও ঝরা পাতা। বসার বেঞ্চ, ডাস্টবিন, সিঁড়ি ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের রেলিংও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরো পার্কে কোনো বন্য প্রাণীর উপস্থিতিও চোখে পড়েনি।

অবকাঠামোগত দুরবস্থার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকটও পর্যটন খাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ইকোপার্কে যাওয়ার একমাত্র ভরসা একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু, যা দিয়ে কেবল মোটরসাইকেল, সিএনজি ও রিকশার মতো ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের গাড়ি সেতুর আগেই রেখে বাকি পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’-এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলে ইকোপার্কের প্রধান গেট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের একটি সড়ক ধসে পড়ে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যায়। পরে অস্থায়ীভাবে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও এখনো স্থায়ী সংস্কার হয়নি। ফলে বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাঁশখালী প্রধান সড়ক থেকে ইকোপার্ক পর্যন্ত মোট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রতি ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ ফুট প্রশস্ত করে সংস্কার করা হয়েছে। তবে বাকি প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক এখনো সংস্কারের বাইরে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অংশের জন্য এখনো চূড়ান্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

পর্যটক কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইকোপার্কের ইজারাদাররাও।

ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হক বলেন, “প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বাকি দেড় কিলোমিটার কাজ বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও সেতু সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনীর বলেন, “সেতুসহ অবশিষ্ট সড়ক সংস্কারের বিষয়টি বিভিন্ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ