শিরোনাম
সাতকানিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সাবস্টেশনে বন্যার পানি, ১৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাকবলিত সাতকানিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত আমীর, ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বিতরণ বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত আমীরের শিলকুপে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এনামুল হক, ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে ত্রাণ চন্দনাইশে দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর, চলবে ত্রাণ কার্যক্রম সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো পরিবার পুকুরিয়ায় পানিবন্দি পরিবারের পাশে জামায়াত, বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, ত্রাণে কেউ বঞ্চিত হবে না: মীর হেলাল
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

জনমনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা: সাতকানিয়ায় চেয়ারম্যান পদের পূণর্বহাল নিয়ে জঠিলতার সৃষ্টি

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৭নং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা জসিম উদ্দিনকে উচ্চ আদালত কর্তৃক চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পরিদর্শন করে এই দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় জনতা ও একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, জসিমের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়াটা এলাকার জন্য কখনো ভালো বিষয় নয়। সে শুধু নৌকার চেয়ারম্যান ছিলেননা, এলাকাবাসীর উপর অত্যাচার করে ভোট কেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোটের সময় ও নির্বাচন পরবর্তী মানুষের উপর যে নির্যাতন করেছেন মানুষ সেসব এখনো ভূলেনি।

স্থানীয়রা আরো বলেন, এলাকায় জনসমর্থণ নেই। ফলে সে পরিষদে এসে অফিস করতে পারবেনা। যার জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে জনগণকে। আমরা মনে করি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়গুলো ভেবে দেখা উচিত। এছাড়াও সে জনরোষ ও ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমনের শিকার হতে পারে। সুতরাং বর্তমানে যেভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিষদ চলছে সেভাবে চললেই জনগণের জন্য ভালো হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এর আগে গত ১৬ই এপ্রিল উচ্চ আদালতে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন জসিম উদ্দিন। তার আবেদনের প্রেক্ষিত গত ১৭ই মে আদালত তাকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতা ও জেলা প্রশাসকের চিটির প্রেক্ষিতে গত ১১ই জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে চেয়ারম্যান পদে থেকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ইউএনওর প্রজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন একটি অফিস আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কোন প্রকার অফিস আদেশ ও অব্যাহতিপত্র ছাড়া একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি কতটুকু আইনসঙ্গত আমি জানিনা।

এদিকে অফিস আদেশের পর চট্টগ্রামে গিয়ে গোপনে পরিষদের নথিপত্রে জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর নিয়েছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিউটন চক্রবর্তী। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জঠিলতা। এ বিষয়ে তিন দিন নিয়মিত পরিষদে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, আমি উপজেলায় মিটিংয়ে আছি। নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো চেয়ারম্যান এসে স্বাক্ষর করে গেছেন। তবে পরিষদের উদ্যোক্তা বলেন, কে স্বাক্ষর করেছে বিষয়টি দেখিনি। আমাকে কাগজগুলো এনে দিয়েছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

এদিকে বুধবার স্থানীয় জনতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ছাত্র প্রতিনিধিরা মিলে ইউএনওকে স্মারকলিপি দেন। স্বারকলিপিতে জসিম উদ্দীনকে স্বৈরাচারের দোষর ও ছাত্রজনতার উপর হামলার একাধিক মামলার আসামি উল্লেখ করে তার চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এছাড়াও ইউএনওর প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার ব্যাখ্যা বা রিপোর্ট চায়নি। আদালত সরাসরি নির্দেশ পালন করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশকে অমান্য করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের আদেশ সবার উপরে৷ আদালত যখন কোন আদেশ দেন তখন পূর্ববর্তী সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশের সাথে সাথে জসিম উদ্দীনের পদ বহাল হয়ে গেছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত হয়ে গেছে। সুতরাং অব্যাহতিপত্রের প্রয়োজন আর নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ