শিরোনাম
বন্যার পর সড়ক মেরামতে উদ্যোগ নিয়েছেন এজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওমর ফারুক সাগরের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চন্দনাইশে আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ২২তম আজিমুশশান মাহফিল অনুষ্ঠিত চন্দনাইশে আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা মতবিনিময় ও প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত চন্দনাইশে মেছো বাঘ ট্রাংকুলাইজ করে উদ্ধার, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে হস্তান্তর চন্দনাইশে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে অবৈধ ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রেলওয়ে সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ বাংলাদেশ স্কাউটস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-কমিশনার হলেন লায়ন সালাউদ্দীন আলী লক্ষ্য ঠিক করে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলেই টেকসই সফলতা সম্ভব
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

জনমনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা: সাতকানিয়ায় চেয়ারম্যান পদের পূণর্বহাল নিয়ে জঠিলতার সৃষ্টি

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৭নং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা জসিম উদ্দিনকে উচ্চ আদালত কর্তৃক চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পরিদর্শন করে এই দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় জনতা ও একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, জসিমের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়াটা এলাকার জন্য কখনো ভালো বিষয় নয়। সে শুধু নৌকার চেয়ারম্যান ছিলেননা, এলাকাবাসীর উপর অত্যাচার করে ভোট কেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোটের সময় ও নির্বাচন পরবর্তী মানুষের উপর যে নির্যাতন করেছেন মানুষ সেসব এখনো ভূলেনি।

স্থানীয়রা আরো বলেন, এলাকায় জনসমর্থণ নেই। ফলে সে পরিষদে এসে অফিস করতে পারবেনা। যার জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে জনগণকে। আমরা মনে করি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়গুলো ভেবে দেখা উচিত। এছাড়াও সে জনরোষ ও ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমনের শিকার হতে পারে। সুতরাং বর্তমানে যেভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিষদ চলছে সেভাবে চললেই জনগণের জন্য ভালো হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এর আগে গত ১৬ই এপ্রিল উচ্চ আদালতে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন জসিম উদ্দিন। তার আবেদনের প্রেক্ষিত গত ১৭ই মে আদালত তাকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতা ও জেলা প্রশাসকের চিটির প্রেক্ষিতে গত ১১ই জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে চেয়ারম্যান পদে থেকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ইউএনওর প্রজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন একটি অফিস আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কোন প্রকার অফিস আদেশ ও অব্যাহতিপত্র ছাড়া একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি কতটুকু আইনসঙ্গত আমি জানিনা।

এদিকে অফিস আদেশের পর চট্টগ্রামে গিয়ে গোপনে পরিষদের নথিপত্রে জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর নিয়েছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিউটন চক্রবর্তী। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জঠিলতা। এ বিষয়ে তিন দিন নিয়মিত পরিষদে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, আমি উপজেলায় মিটিংয়ে আছি। নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো চেয়ারম্যান এসে স্বাক্ষর করে গেছেন। তবে পরিষদের উদ্যোক্তা বলেন, কে স্বাক্ষর করেছে বিষয়টি দেখিনি। আমাকে কাগজগুলো এনে দিয়েছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

এদিকে বুধবার স্থানীয় জনতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ছাত্র প্রতিনিধিরা মিলে ইউএনওকে স্মারকলিপি দেন। স্বারকলিপিতে জসিম উদ্দীনকে স্বৈরাচারের দোষর ও ছাত্রজনতার উপর হামলার একাধিক মামলার আসামি উল্লেখ করে তার চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এছাড়াও ইউএনওর প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার ব্যাখ্যা বা রিপোর্ট চায়নি। আদালত সরাসরি নির্দেশ পালন করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশকে অমান্য করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের আদেশ সবার উপরে৷ আদালত যখন কোন আদেশ দেন তখন পূর্ববর্তী সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশের সাথে সাথে জসিম উদ্দীনের পদ বহাল হয়ে গেছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত হয়ে গেছে। সুতরাং অব্যাহতিপত্রের প্রয়োজন আর নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ