শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খতমে কোরআন, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অবিস্মরণীয় স্থপতি। ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান এবং সম্মুখসমরে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা শুরু করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনশক্তি রপ্তানি ও তৈরি পোশাক শিল্পের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর গৃহীত ১৯ দফা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমুখী উদ্যোগ আজও দেশের অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল আত্মনির্ভরশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সকল জনপ্রতিনিধি ও সেবা সংস্থার সমন্বয়ে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, হালদা নদীর ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জনগণের অর্থের অপচয় ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন, বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুধীসমাজ, আলেম-ওলামা এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।