চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মৌলানা ফজল উদ্দিন জামে মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে “পোক্তা মসজিদ” নামে অধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই মসজিদটি এলাকার মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম মৌলানা ফজল উদ্দিন (রহ.)-এর স্মৃতিকে ধারণ করে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। শক্তিশালী ও মজবুত নির্মাণশৈলীর কারণে এলাকাবাসীর কাছে এটি “পোক্তা মসজিদ” নামে পরিচিতি লাভ করে। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার জামাত, পবিত্র রমজান মাসে তারাবিহ, শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত, মিলাদ মাহফিল, দোয়া অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল এবং বিভিন্ন ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে বাজালিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মসজিদে এসে মান্নত করেন এবং নগদ অর্থ, ছাগল, মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের দান-অনুদান প্রদান করেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এসব অনুদান মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন, ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
বিশেষ করে দুই ঈদের সময় বাজালিয়া ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত এই মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজালিয়াসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা এলাকায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে।
বর্তমানে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহাম্মদ শফিক এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এনামুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নেতৃত্বে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘ ইতিহাস ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ফজল উদ্দিন জামে মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই এর ইতিহাস, স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ এবং এলাকার সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক উজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে থাকবে।