শিরোনাম
‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন গোলপোস্টের আঘাতে প্রাণ গেল এনায়েতের জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা, স্মৃতি সংরক্ষণ ও সামাজিক সম্প্রীতিতে নানা আয়োজন রাজধানীতে পাহাড়ি ফলের বাজার সম্প্রসারণ, প্রতিটি উপজেলায় হবে কোল্ড স্টোরেজ: পার্বত্য সচিব পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫৩ লাখ টাকার বিদেশি মদ, বিয়ার ও সিগারেট জব্দ চট্টগ্রামে গ্লোবাল টেলিভিশনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন স্মার্ট নগর গঠনে ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর শিক্ষার মানোন্নয়নে উত্তর বাজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির যাত্রা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে উদ্বেগ: ব্যাখ্যা দিল সাতকানিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সাতকানিয়ায় পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

স্মার্ট নগর গঠনে ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর

চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা / ৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, দেনার বোঝা কমিয়ে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জন, স্মার্ট সিটি বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নাগরিকসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

৩০ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে মেয়র ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পাশাপাশি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করেন। গত অর্থবছরে ঘোষিত বাজেট ছিল ২ হাজার ১৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র বলেন, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দেনা ছিল প্রায় ৫৯৬ কোটি টাকা। এক বছরেরও কম সময়ে সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই দেনা কমিয়ে ৩৮০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আয়কর বাবদ ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ৮৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল ও আনুতোষিক বাবদ বিপুল অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৪২০ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে আনুতোষিক দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনাও দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অতীতে অযৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যৌক্তিক করা হচ্ছে। তবে বন্দর, রেলওয়ে, কন্টেইনার টার্মিনাল, অয়েল কোম্পানি ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতেই হবে। কারণ রাজস্ব আদায়ের ওপরই নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান নির্ভর করে।

তিনি বলেন, এতদিন হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা না থাকায় নানা ধরনের জটিলতা ছিল। এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারবেন। এতে কর নির্ধারণ ও আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে দেড় লাখেরও কম। এই সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর সড়কগুলো সর্বোচ্চ ১০ টন ওজন বহনের উপযোগী হলেও বন্দরের ভারী যানবাহন নিয়মিত ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত ওজন বহন করে চলাচল করছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে এবং প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণেই ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মেয়র জানান, এ বিষয়ে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশনের পাশেও হকারদের জন্য জায়গা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নাগরিক সেবা আরও সহজ করতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ চালুর ঘোষণা দেন মেয়র। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে ছবি সংযুক্ত করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।

স্মার্ট সিটি গঠনের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নগরীর ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজার ৫০০টি স্মার্ট এলইডি লাইট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ও নন-সোলার স্মার্ট লাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫৩টি মোড়ে স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর জন্য ২১৫ কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিএফআইডিসি রোডে চসিকের আট একর জমিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে মেয়র জানান, এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩২৪টি উপ-প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি শেষ হলে ৭৬৯ কিলোমিটার সড়ক, ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ, ১৪টি ব্রিজ, ২২টি কালভার্ট, ১০টি গোলচত্বর এবং ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি ওভারপাস নির্মিত হবে। এছাড়া বহদ্দারহাট-বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১২টি ওয়ার্ড জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও বর্তমানে এর ৮১ শতাংশ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে নতুন এসটিএস, কন্টেইনার, পে-লোডার, স্কেভেটরসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। মেডিক্যাল বর্জ্য প্রতিদিন পৃথকভাবে সংগ্রহ করে ইনসিনারেটরের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে এবং স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমেরিকান প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব বিটিআই লার্ভিসাইড ব্যবহার, বিশেষ প্রশিক্ষিত দল গঠন, বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় আগামী অর্থবছরে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও সবুজায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

বাজেট বক্তব্যে কাজীর দেউড়িতে অবস্থিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শহিদ জিয়া জাদুঘর সংরক্ষণ ও সংস্কারের আহ্বানও জানান মেয়র। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরতে জাদুঘরটি সংরক্ষণ জরুরি।

এদিকে নতুন অর্থবছরের জন্য চারটি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, স্বচ্ছ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, যুগোপযোগী নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন এবং চসিকের সব ধরনের সেবা ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যার চালু করা হবে।

ছবির ক্যাপশন : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।প্রয়োজনে এটিকে আরও দৈনিক আজাদী, পূর্বকোণ বা সংবাদ-এর রিপোর্টিং স্টাইলে আরও প্রাণবন্ত ও প্রকাশযোগ্য ভাষায়ও রূপান্তর করে দিতে পারি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ