শিরোনাম
বন্যার্তদের খোঁজে সাতকানিয়ায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিতরণ করলেন ত্রাণ সরকার ও বিত্তবানদের এই দুর্যোগে বাঁশখালীবাসীর পাশে থাকার আহবান বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান সাতকানিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সাবস্টেশনে বন্যার পানি, ১৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাকবলিত সাতকানিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত আমীর, ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বিতরণ বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত আমীরের শিলকুপে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এনামুল হক, ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে ত্রাণ চন্দনাইশে দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর, চলবে ত্রাণ কার্যক্রম সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো পরিবার
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

টানা বৃষ্টিতে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাঙ্গু ও ডলুর পানি বৃদ্ধি

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে উপজেলার ভোয়ালিয়াপাড়া, রূপকানিয়া, চরতি, কাঞ্চনা, বাজালিয়ার মাহালিয়া, ঢেমশা, কেওঁচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থান প্লাবিত হয়েছে এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে দানুরমার ঘাটের সাঁকোটি পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে। ফলে নদী পারাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার দক্ষিণ ভোয়ালিয়াপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৩ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া নদীতীরের অংশটি এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। চলমান ভারী বর্ষণে ওই স্থানে আবারও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বৃষ্টির মধ্যেই কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যেতে দেখা গেছে।

উপজেলার পূর্ব ছদাহা এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ছদাহা–মাহালিয়া সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে সাঙ্গু ও ডলু নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের চর ও বিল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের আবাদি জমি, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সাতকানিয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ধস, নদীতীর ভাঙন এবং নদীতীরবর্তী বসতঘর বিলীন হওয়ার ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ