সারাদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিন প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি প্রতিটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি জোর দেন।
একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বন্যাকবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।