ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)-এর ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ডিএমসি-ডে ২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছান। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
ক্যাম্পাসে পৌঁছালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ডিএমসি-ডে ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে একটি উপস্থাপনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। এর আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে দুটি আধুনিক ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক, নির্মাণ পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিএমসি-ডে ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায়ও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যখাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, পুনর্মিলনী এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের গৌরবময় ৮০ বছরের পথচলাকে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান অনন্য। ভবিষ্যতেও আধুনিক, মানবিক ও গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।