চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বহিঃনোঙরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে “চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে কোস্ট গার্ড জানায়, প্রতিবেদনে উল্লেখিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুইটির ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনো মালামাল চুরি হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে No Objection Certificate (NOC) এবং Letter of Appreciation প্রদান করেছে। অথচ সংবাদে ওই জাহাজগুলো থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের দাবি করা হয়েছে, যা কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী ভিত্তিহীন।
অন্য জাহাজটির বিষয়ে কোস্ট গার্ড জানায়, চুরির প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর শিপিং এজেন্ট বিষয়টি অবহিত করলে সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডিং টিম পাঠানো হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী জাহাজে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট জাহাজে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কোস্ট গার্ড বলেছে, দেশের সামুদ্রিক খাতের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় পূর্ব জোন ৩,৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ গত রাতেও বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মৎস্য আহরণের আড়ালে কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে অপরাধীরা বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে চুরি ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত করে থাকে। এসব অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে বাহিনীটির জনবল, বোট ও কিছু সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে সরকারের উদ্যোগে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।