শিরোনাম
কোরআনের হাফেজ তৈরির অঙ্গীকারে গাউছিয়া ছালেকিয়া মাদ্রাসার ছবক অনুষ্ঠান সম্পন্ন চন্দনাইশের বরমায় ৩ হাজার ৫০০ বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে আবদুর রহিম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা নিরসনে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ডে ‘বেস্ট ইন্ট্রাপ্রেনার’ আফরোজা হক বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বললেন অর্থমন্ত্রী আশ শিফা দিয়ামনি-ই কমিউনিকেশনের স্টার অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি ত্রাণ বিতরণে যুবলীগ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ, সাতকানিয়ায় বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য জনপদ মা-বাবা হত্যা মামলায় নতুন মোড়: ছেলের দেওয়া তথ্যেই মিলল হত্যার আলামত
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বললেন অর্থমন্ত্রী

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে, যা শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং শিল্পায়নের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং এ প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামো উন্নয়নসহ মোট বিনিয়োগ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন), সেবাখাত, আবাসন এবং সহায়ক শিল্প গড়ে উঠবে, যার সুফল আনোয়ারার গণ্ডি ছাড়িয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চীন একসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার ছিল, পরে বিনিয়োগ অংশীদারে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হয়ে থাকবে এবং এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই সিইআইজেডে প্রথম কারখানার উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি চালু করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১৮ মাসের মধ্যেই প্রথম কারখানা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানও সে অনুযায়ী কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অতিথি। তাঁদের বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে তা সমাধান করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনা ঋণ থেকে আসছে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই প্রথম কারখানায় উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ