সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বান্দরবান জেলা জিয়া মঞ্চ। সংগঠনের উদ্যোগে জেলার দুই শতাধিক বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বান্দরবান সদর উপজেলার কালাঘাটা এলাকায় জেলা জিয়া মঞ্চের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন স্বাধীন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম সোলতানা লিনা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পৌর জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক এরশাদ আলম, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ জেলা ও পৌর জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবে বান্দরবান জেলা জিয়া মঞ্চ মানবিক এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
প্রধান বক্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়া মঞ্চের অন্যতম সামাজিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমেও সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে হেলাল উদ্দিন স্বাধীন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে জেলা জিয়া মঞ্চ সবসময় কাজ করে যাবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে দুই শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।