মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়েছে ছোট্ট জেনিফা আমরিন ইনায়া। বাবার মৃত্যুর পর কিছুদিনের মধ্যেই তার মা নিজ বাড়িতে চলে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে শিশুটি। এমন পরিস্থিতিতে নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে সহায়তার আশায় সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তার দাদা।
বিষয়টি জানার পর শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন। মানবিক বিবেচনায় শিশুটির জন্য খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রীর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিচর্যার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান শিশুটির অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। ইউএনও নিজ হাতে ছোট্ট জেনিফা আমরিন ইনায়ার হাতে খাদ্যসামগ্রী ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
উপহার পেয়ে শিশুটির মুখে ফুটে ওঠে হাসি। এ সময় উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুটির ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়, সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী একটি উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুটি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, পরিচর্যা ও সহায়তা পেতে পারে—সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শিশুটির দাদা জানান, নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের কারণে শিশুটির প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন তিনি। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার পর দ্রুত সহায়তা পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। শিশুটির ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও একটি উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে প্রশাসনের এমন সহমর্মী উদ্যোগ মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে বাবা হারানো এবং পারিবারিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রশংসার দাবি রাখে।
তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শুধু একটি অসহায় শিশুর মুখে সাময়িক হাসি ফোটায় না; বরং সমাজে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে দেয়।