জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর আলোকে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন সকালে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে দেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ থেকে সব ধরনের বৈষম্য চিরতরে দূর করা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর আলোকে বিএনপি সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে সরকারের গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল। তাই কোনো ধরনের তাড়াহুড়া বা হটকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সব অংশীজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরামর্শ এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার শুভসূচনা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০২৪ সালের সব বীর জুলাইযোদ্ধা এবং সাধারণ জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।