শিরোনাম
শিল্পী হওয়াই আমার লক্ষ্য, আইনজীবী হওয়ার স্বপ্নও আছে: আতিকা আফসানা মাদক কারবারির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অর্থের কাছে অসহায় যুবসমাজ কর্ণফুলীতে বদলির আদেশেও নড়েননি ৫ পুলিশ কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা, মনকিচর বড় মাদ্রাসায় সবুজ কর্মসূচি রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন ‘রেডিসন ব্লুর ডেলিগেট কারা?’—চট্টগ্রাম বিএনপিতে ত্যাগীদের ক্ষোভ বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে মানুষের ঢল, ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে মাতারবাড়ী হবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ বছর ঘুরলেই বন্যা-ভাঙনের আতঙ্ক, সাতকানিয়ায় নদীশাসনের দাবি
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন

মাদক কারবারির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অর্থের কাছে অসহায় যুবসমাজ

কে এম জাবেদ / ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

মাদক এখন শুধু সামাজিক ব্যাধি নয়, এটি একটি নীরব মহামারি। এর ভয়াল ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, ভাঙছে পরিবার এবং বাড়ছে সামাজিক অপরাধ।

মাদকাসক্তি একটি মানুষের জীবনকে ধ্বংস করার পাশাপাশি তার পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে যাদের গড়ে ওঠার কথা, সেই তরুণদের একটি অংশ আজ মাদকের ভয়াল ছোবলে পথ হারাচ্ছে। সহজলভ্যতা, অর্থের প্রলোভন ও অপরাধী চক্রের সক্রিয় তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

মাদক কারবারিদের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় এমন অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। ক্ষমতার পালাবদল হলেও কৌশলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে তারা। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

শুধু রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কই নয়, সামাজিকভাবেও নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নানা কৌশল নেয় মাদক কারবারিরা। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অর্থ সহায়তা দিয়ে কেউ কেউ নিজেদের সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। অথচ সেই আড়ালে যদি মাদক কারবারের মতো ভয়াবহ অপরাধ চলে, তাহলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

আরও ভয়াবহ হলো, মাদকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে ভয়ভীতি, হামলা বা মামলায় হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস হারিয়ে ফেলেন। আর এই নীরবতার সুযোগেই মাদকের বিস্তার ঘটে পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জনবহুল এলাকায়।

মাদক কারবারিদের প্রধান টার্গেট তরুণরা। অর্থের প্রলোভন, দ্রুত আয়ের আশ্বাস কিংবা সহজ জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজে যুক্ত করা হয়। অনেক সময় তরুণদের হাতে মোটরসাইকেল বা অর্থ তুলে দিয়ে অপরাধে জড়ানো হয়। তাদের এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়।ধরা পড়লেও প্রভাব খাটিয়ে জামিনের ব্যবস্থা করা হবে। এভাবেই একজন তরুণ ধীরে ধীরে অপরাধের জগতে জড়িয়ে পড়ে।

এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। মাদকের সহজলভ্যতায় শিক্ষার্থী, বেকার ও হতাশাগ্রস্ত তরুণদের একটি অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে এবং কখনো কখনো চুরি, ছিনতাই, সহিংসতাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

মাদকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে। মাদকাসক্ত ব্যক্তির কারণে সংসারে অশান্তি, পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতন বাড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নারী ও শিশুরা। ভেঙে যায় বহু বছরের পারিবারিক সম্পর্ক।

তাই মাদক নির্মূলে শুধু মাদকসেবীদের আটক করলেই হবে না। মাদকের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে। কারা অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে মাদকাসক্তদের শুধু অপরাধী হিসেবে দেখলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা প্রভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। তদন্ত থেকে শুরু করে মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

মাদকবিরোধী লড়াই কোনো একদিনের অভিযান নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

মাদক কারবারিরা যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।এই বার্তাই কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি তরুণকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি জীবন নয়, একটি পরিবার ও একটি ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা। তাই মাদকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ভেঙে তরুণ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

মো. জাবেদুল ইসলাম
গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ