শিরোনাম
বিশ্বমানের উইকেট তৈরিতে চট্টগ্রামে বিসিবির বিশেষ প্রশিক্ষণ ঐক্যবদ্ধ টিভি সাংবাদিকদের নিয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ফোরাম গঠন সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল কণ্ঠ অনুকরণ থেকে ভয়েসওভার, নৃত্যে পুরস্কার—জয়িতা রশীদের গল্প পরিচয়-প্রভাব নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই ব্যবসার সুযোগ: আমির খসরু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্য সচিব মানিক সাতকানিয়ায় এসএসসির ফলে শীর্ষে বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল বন্যাদুর্গতদের পাশে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর কাছে চেক হস্তান্তর শিল্পী হওয়াই আমার লক্ষ্য, আইনজীবী হওয়ার স্বপ্নও আছে: আতিকা আফসানা মাদক কারবারির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অর্থের কাছে অসহায় যুবসমাজ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

পরিচয়-প্রভাব নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই ব্যবসার সুযোগ: আমির খসরু

জাহাঙ্গীর আলম / ৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

বিএনপি সরকারের অধীনে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা, স্বজনপ্রীতি কিংবা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব চলবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যবসা করতে হলে যোগ্যতা ও নিয়ম মেনে করতে হবে। কে কার পরিচিত, কে কতটা প্রভাবশালী কিংবা কার রাজনৈতিক পরিচয় কী—এসব বিবেচনায় নিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা, পণ্য খালাসে বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয়, রেগুলেটরি জটিলতা, আটকে থাকা কন্টেনার এবং অবৈধ ও পরিত্যক্ত পণ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

 

মন্ত্রী বলেন, বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে যে জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রতিটির সমাধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণ নয়, কোন সিদ্ধান্ত কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রেগুলেশন ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাজেটে ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বন্দর ও কাস্টমসকে একই টেবিলে এনে বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় কমবে এবং এর সুফল ভোক্তাদের ওপরও পড়বে।

তিনি বলেন, আমদানি করা পণ্য বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে একদিকে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তাই পণ্য খালাসের সময় কমানো, অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাদ দেওয়া এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

চট্টগ্রাম কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কন্টেনার ও বিভিন্ন আটকে থাকা পণ্য নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এসব পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ বা পরিত্যক্ত পণ্য জমে থাকার কারণে কাস্টমস চত্বরে যে জট তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ বাড়তি সুবিধা নিতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। ব্যবসা কিংবা পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয়, প্রভাব বা ক্ষমতার কোনো মূল্য থাকবে না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নও নেই বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশি না বিদেশি—কে টার্মিনাল পরিচালনা করবে সেটি একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়; মূল বিষয় হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা। যে প্রতিষ্ঠানই দায়িত্ব পাক, তাকে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন অর্থনীতিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নেওয়া, বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। ডিরেগুলেশন, ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে শিল্প খাতকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চট্টগ্রামকে ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এটি চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাটির আগ্রহের বড় প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আমির খসরুর ভাষ্য, চট্টগ্রামকে শুধু একটি বন্দর বা লজিস্টিকস হাব হিসেবে দেখলে হবে না; বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে হবে। বন্দরকেন্দ্রিক লজিস্টিকস সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. নাজমুল হোসাইনসহ বন্দর ও কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, পণ্য খালাসে সময় কমানো এবং ব্যবসায়িক ব্যয় হ্রাসের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পরিচয় ও প্রভাবের পরিবর্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবসার পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ