শিরোনাম
১৮৫ দেশ ভ্রমণে নাজমুন নাহার, লাল-সবুজ পতাকা হাতে বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন অভিনেত্রী নওরিন পটিয়ায় ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অফিস উদ্বোধন বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা: সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে চউক ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের মতবিনিময় সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠন চট্টগ্রামে নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়ছে প্রস্তুতি চন্দনাইশে কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণ ও শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা চবিতে ২৫ শিক্ষার্থীর মাঝে ‘এক টাকায় শিক্ষা’র স্কুলব্যাগ বিতরণ সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর ভয়াবহ ভাঙন, দ্রুত প্রতিরক্ষা চান চরতীবাসী
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

আনোয়ারায় টানেল গোলচত্বর দখল করে হাইস-মাইক্রোবাস পার্কিং, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

মো. জাবেদুল ইসলাম, আনোয়ারা প্রতিনিধি / ৬১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাতরী চৌমুহনী টানেল গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে অবৈধভাবে হাইস ও মাইক্রোবাস পার্কিং করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং চললেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলচত্বর এলাকায় নির্দিষ্ট পরিবহন স্ট্যান্ড ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, টানেল গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়কের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে হাইস ও মাইক্রোবাসের দখলে রয়েছে। সারিবদ্ধভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে টানেল দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন, স্থানীয় গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পথচারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের একই জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্যস্ততম এই মোড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই রাতে চাতরী চৌমুহনী টানেল চত্বরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। রাত ৮টার দিকে কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার আগেও গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়কের বড় একটি অংশ হাইস ও মাইক্রোবাস পার্কিংয়ের দখলে ছিল। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, চাতরী চৌমুহনী টানেল গোলচত্বর দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতকেন্দ্র। টানেল দিয়ে নগরী থেকে আসা যাত্রীদের একটি বড় অংশ এখান থেকে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার যানবাহনে ওঠেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী এ এলাকা ব্যবহার করেন। অথচ তাদের জন্য নেই নির্দিষ্ট ও নিরাপদ যাত্রী ওঠানামার স্থান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানেল গোলচত্বরের পূর্ব পাশে সড়কের একাংশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে হাইস ও মাইক্রোবাস রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও একাধিক গাড়ি পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে রাখায় সড়কের চলাচলের অংশ আরও সংকুচিত হয়ে গেছে। গাড়িগুলোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে হাঁটার জায়গাও থাকছে না। টানেল থেকে আসা যানবাহনগুলোকে এসব পার্কিং করা গাড়ির পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রী ওঠানামার সময় সড়কের ওপরই মানুষের ভিড় তৈরি হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, টানেল দিয়ে এসে বাস, হাইস বা মাইক্রোবাসে ওঠার জন্য তাদের দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে নিরাপদভাবে অপেক্ষা করার মতো জায়গা নেই। ফলে অনেক সময় চলন্ত যানবাহনের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

পথচারী কাইয়ুম বলেন, টানেল গোলচত্বরটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতকেন্দ্র। টানেল দিয়ে নগরী থেকে আসা যাত্রীদের বড় একটি অংশ এখান থেকে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার যানবাহনে ওঠেন। কিন্তু সড়কের জায়গা গাড়ি পার্কিং করে দখল করে রাখায় মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

টানেল ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী রিফাত বলেন, “আমরা দাঁড়ানোর জায়গা পাই না। টানেলের গাড়ি থেকে নেমে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ-ছয়টি উপজেলার মানুষ এখান থেকে গাড়িতে ওঠেন। কিন্তু গাড়ি পার্ক করে রাখায় যাত্রীদের দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।”

এদিকে চাতরী চৌমুহনী এলাকায় প্রতিদিন কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু হাইস ও মাইক্রোবাসচালক সড়কের পাশে গাড়ি রেখে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন এবং সেখানে আড্ডাও দেন। এতে যানজট ও বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের সঙ্গে চালকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

কেইপিজেডে কর্মরত কয়েকজন নারী শ্রমিক জানান, কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় তাদের দীর্ঘক্ষণ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপদ যাত্রীছাউনি বা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় অনেক সময় চলন্ত গাড়ির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় কিছু চালকের অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট অপেক্ষার স্থান এবং পরিবহন স্ট্যান্ড স্থাপন করা হলে এ ধরনের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।

সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোলচত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়ে সড়কের অংশবিশেষ দখল করে গাড়ি রাখার কারণে যানবাহন চলাচলের জায়গা কমে যায়। বিশেষ করে টানেল থেকে দ্রুতগতিতে বের হয়ে আসা কোনো যানবাহন গোলচত্বরে এসে হঠাৎ থামলে বা দিক পরিবর্তন করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর সঙ্গে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও স্থায়ী সমাধান না হলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসে। তাই শুধু অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ নয়, গোলচত্বর এলাকায় নির্দিষ্ট পরিবহন স্ট্যান্ড, যাত্রী ওঠানামার স্থান এবং নিরাপদ অপেক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে সড়ক দখলমুক্ত রাখা জরুরি।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে পার্কিং করার সুযোগ নেই। তিনি স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সওজের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর হতে হবে। সওজের অভিযান পরিচালনার সুযোগ খুব বেশি নেই। তবে অবৈধ পার্কিং তুলে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হবে।

আনোয়ারা সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দীন চৌধুরী কুসুম বলেন, গোলচত্বরের আশপাশে নির্দিষ্ট পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়ক দখলমুক্ত করে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। চালকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ টানেল সংযোগ সড়কের এমন একটি ব্যস্ত মোড়ে যদি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং চলতে থাকে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? চাতরী চৌমুহনী টানেল গোলচত্বরকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত সড়ক দখলমুক্ত করে নির্দিষ্ট পরিবহন স্ট্যান্ড ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

চাতরী চৌমুহনী বাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিআই আশিকুর রহমান জানান, সড়কে যাতে কোনো গাড়ি পার্কিং করে রাখা না হয়, সে জন্য গাড়িগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিন উদ্দিন জানান, সড়ক দখল করে পার্কিং করার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ৩০ জুলাইয়ের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও যদি টানেল গোলচত্বরের সড়ক দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত সড়ক দখলমুক্ত করে নির্দিষ্ট পরিবহন স্ট্যান্ড ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ করা গেলে চাতরী চৌমুহনী টানেল গোলচত্বরের যান চলাচল আরও নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ