চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আসলাম শেখ (২৪), আব্দুল কাইয়ুম (৩২), মো. রাশেদ (৩৮) ও মো. রাসেল আলামিন (২৯)। তাদের মধ্যে আসলাম শেখকে ঘটনার সময় বেপজা নিরাপত্তারক্ষীরা চুরির চেষ্টাকালে আটক করেছিলেন। পরে সংঘবদ্ধ একটি দল হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
বেপজা সূত্রে জানা যায়, শিল্প এলাকার সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিইপিজেডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বেপজার নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট রাতে সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম. নাজির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম এলাকায় টহল দিচ্ছিল।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে টহলরত নিরাপত্তাকর্মীরা খবর পান, মেসার্স তারিক আজিম টেক্সটাইল লিমিটেড নামের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে একদল চোর গোপনে প্রবেশ করেছে। খবর পেয়ে টহল টিম ঘটনাস্থলে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরচক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় টহল টিম ধাওয়া করে আসলাম শেখকে আটক করে। পরে বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারি পিকআপে করে সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের কাছে নেওয়ার পথে সিইপিজেডের বেপজা সিকিউরিটি গেট থেকে প্রায় ২০ মিটার উত্তর-পূর্ব দিকে বিডি অ্যাপারেলসের গেটের সামনে সড়কে সংঘবদ্ধ একটি দল গাড়িটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আটক আসলাম শেখকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
নিরাপত্তারক্ষীরা এতে বাধা দিলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে এবং গাড়ি ভাঙচুরের পর আটক আসলাম শেখকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বেপজার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও এস্টেট) পাপ্পু দে বাদী হয়ে আসলাম শেখসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে ইপিজেড থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১৮ আগস্ট ইপিজেড থানার মামলা নম্বর-৮ হিসেবে রুজু করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩০৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ২২৫(খ) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়। ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসলাম শেখসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করে সংঘবদ্ধভাবে চুরি ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।