শিরোনাম
১৮৫ দেশ ভ্রমণে নাজমুন নাহার, লাল-সবুজ পতাকা হাতে বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন অভিনেত্রী নওরিন পটিয়ায় ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অফিস উদ্বোধন বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা: সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে চউক ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের মতবিনিময় সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠন চট্টগ্রামে নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়ছে প্রস্তুতি চন্দনাইশে কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণ ও শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা চবিতে ২৫ শিক্ষার্থীর মাঝে ‘এক টাকায় শিক্ষা’র স্কুলব্যাগ বিতরণ সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর ভয়াবহ ভাঙন, দ্রুত প্রতিরক্ষা চান চরতীবাসী
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়ছে প্রস্তুতি

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

রাসায়নিক দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে ‘সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ (STX)’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান ঘাঁটিতে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। কেমিক্যাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের (CDRT) আভিযানিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মহড়ায় আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের দক্ষতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে নিয়মিতভাবে ‘Basic Assistance and Protection Course for Responders (BAPCOR)’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বাস্তব পরিস্থিতির আদলে এ যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন ধাপ বাস্তবসম্মতভাবে অনুশীলন করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত ও বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কৌশল অনুশীলন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়েও মহড়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেসব বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মহড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা। জরুরি পরিস্থিতিতে কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন, কীভাবে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এসব বিষয় বাস্তব পরিস্থিতির আদলে অনুশীলন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাসায়নিক দুর্ঘটনা সাধারণ অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য দুর্যোগের তুলনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মানুষের জীবন, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো বন্দরনির্ভর ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয়ের গুরুত্ব আরও বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গুদাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যৌথ মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতাও বাড়বে।

নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি শক্তিশালী করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এ যৌথ মহড়া সেই সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ