শিরোনাম
চট্টগ্রাম বন্দরের শিপিং চ্যানেলে বিশেষ অভিযান, অপসারণ ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে সম্মিলিত অঙ্গীকার, জেলা পুলিশের সুধী সমাবেশ ও র‍্যালি তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে কম মজুরির শ্রমের লোভে রোহিঙ্গা নিয়োগ, সাতকানিয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ এক সেকেন্ডেই বিকল্প বিদ্যুৎ: শাহ আমানত বিমানবন্দরে লোডশেডিংয়ের দাবি নাকচ পুলিশের অভিযানে বিএসআরএমের চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ চবির নতুন প্রধান প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল উন্নয়ন নিয়ে লিখলে সাধুবাদ, দুর্নীতি নিয়ে লিখলে হলুদ সাংবাদিক! ভিউ ও ডলারের নেশায় আমরা কোথায় যাচ্ছি? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফতেহনগর গ্রামের বুকে তুরস্কের ঐতিহাসিক ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্স এখন দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ ও মিনার, প্রশস্ত নামাজের স্থান এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় নির্মিত এই মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং প্রায় দুই শতাব্দীর ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবার স্মৃতি বহনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় ইতিহাস ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮০০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে সমাজপতি মোহাম্মদ আলী শিকদার ফতেহনগর গ্রামের গোড়াপত্তন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত জনপদে পরবর্তীতে শিকদার পরিবারের অন্যতম কৃতী সন্তান ওবায়েদ উল্লাহ একটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময়ের ছোট্ট মসজিদটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে আজকের বিশাল মসজিদ কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে।

মসজিদটির উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে জোয়ারা বোর্ডের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নজিরউদ্দিন মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের পাশে একটি পুকুর খনন করেন। দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি ওজু ও দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এরপর ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে দেশবরেণ্য আইনজ্ঞ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট বদিউল আলম মসজিদটিকে আংশিক পাকা নির্মাণ করে নতুন রূপ দেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে তাঁর উদ্যোগে মসজিদের আরও সম্প্রসারণ, মোজাইক মেঝে স্থাপন এবং পাকা দিঘা নির্মাণ করা হয়। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি মসজিদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

তবে মসজিদটির আধুনিক রূপান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ২০১৪ সালে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিজ এক্সেলেন্সি জিয়াউদ্দিন আদিল ও সমাজসেবিকা সালমা খানমের অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে পুরোনো মসজিদটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও ইসলামী ঐতিহ্যের সমন্বয়ে নির্মিত বর্তমান স্থাপনাটিতে তুরস্কের ব্লু মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর অনুপ্রেরণা রয়েছে। এর গম্বুজ, মিনার, কারুকার্য, প্রশস্ত নামাজের স্থান ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলী সহজেই দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

পরবর্তীতে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একই উদ্যোগে মসজিদ কমপ্লেক্সে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসন, সমৃদ্ধ ইসলামিক লাইব্রেরি, মাদ্রাসা ভবন এবং আধুনিক ওজুখানা নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মসজিদটি ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ও সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

বর্তমানে মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের কুরআন শিক্ষা, নূরানী ও দ্বীনি পাঠদান, ইসলামিক লাইব্রেরি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মসজিদকে কেন্দ্র করে মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয়ে থাকে।

মসজিদটির নান্দনিক স্থাপত্য দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন। বিশেষ করে এর গম্বুজ ও মিনারের সৌন্দর্য, প্রশস্ত প্রাঙ্গণ এবং ইসলামী স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। ফলে ফতেহনগরের এই মসজিদটি বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুইশ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি এলাকার মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে মসজিদটির অবকাঠামোগত পরিবর্তন ঘটলেও এর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব অটুট রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদের ইতিহাস ও স্থাপত্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, মানবসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্স ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও মানবকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে টিকে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ