শিরোনাম
এক সেকেন্ডেই বিকল্প বিদ্যুৎ: শাহ আমানত বিমানবন্দরে লোডশেডিংয়ের দাবি নাকচ পুলিশের অভিযানে বিএসআরএমের চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ চবির নতুন প্রধান প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল উন্নয়ন নিয়ে লিখলে সাধুবাদ, দুর্নীতি নিয়ে লিখলে হলুদ সাংবাদিক! ভিউ ও ডলারের নেশায় আমরা কোথায় যাচ্ছি? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি সাতকানিয়ায় প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন নিয়ে মতবিনিময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজ্ঞান মেলা কালুরঘাট সেতু প্রকল্প পরিচালকের কাঁধে পূর্বাঞ্চল রেলের ভারপ্রাপ্ত জিএমের দায়িত্ব চউকের অভিযানে সাবেক মেয়র রেজাউলের ভবনসহ ৭টিতে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন

পুলিশের অভিযানে বিএসআরএমের চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া রড বহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃজেলা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব রড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সাইজের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথিমধ্যে ট্রাকবোঝাই লোহার রড চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে।

পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এসআই (নিঃ) মো. সাদ্দাম হোসেন, এএসআই (নিঃ) মো. ইসমাইলসহ পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের প্রথম ধাপে গত ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে আসামি জাকিরের বাসা থেকে ট্রাকের হেলপার মো. হাদিছ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবুল বাশার ওরফে বাঁশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের মূলহোতা হিসেবে জাহাঙ্গীরের নাম ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার বসতঘর এবং মহম্মদপুর বাজারে অবস্থিত ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে বিএসআরএমের চালান থেকে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে রড পরিবহনে ব্যবহৃত চুরি যাওয়া ট্রাকটি খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য, মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এ অভিযান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সুরক্ষা, আন্তঃজেলা অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ এবং চুরি যাওয়া মালামাল দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ