দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের নেভিগেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহিঃনোঙর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। অভিযানে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করা প্রায় ১২ হাজার মিটার অবৈধ মাছ ধরার জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ ও অপসারণ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে এ অভিযান পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে বন্দরের নিজস্ব জলযান ‘কাণ্ডারী-১২’ ও চারটি স্থানীয় বোট অংশ নেয়। অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরের মূল শিপিং চ্যানেল ও বহিঃনোঙর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাছ ধরার জাল স্থাপনের কারণে বড় জাহাজের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নেভিগেশনাল দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নৌ-চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে শিপিং চ্যানেল ও আশপাশের এলাকা থেকে সুতার জাল, টং জাল ও বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার মিটার জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল ও সরঞ্জামাদি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এ সময় নেভিগেশনাল রুটে অবস্থানরত ফিশিং বোটগুলোকে দ্রুত চ্যানেল এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নৌ-চলাচলের নির্ধারিত রুট ও নেভিগেশনাল চ্যানেলে কোনো ধরনের জাল স্থাপন না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মাঝিমাল্লাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মূল শিপিং চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। এসব জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নেভিগেশনাল চ্যানেল সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধভাবে জাল স্থাপন কিংবা নৌযান অবস্থান করায় জাহাজের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ অভিযানের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল রুটে নেভিগেশনাল ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরের নেভিগেশনাল নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বিত তদারকিতে ভবিষ্যতেও কর্ণফুলী চ্যানেল, মূল শিপিং চ্যানেল ও বহিঃনোঙর এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নৌযান ও মাঝিমাল্লাদের নির্ধারিত নৌ-চলাচল রুট মেনে চলা এবং নেভিগেশনাল চ্যানেলে জাল কিংবা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।