শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূত সাসাকাওয়ার সাক্ষাৎ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে প্রবাসীদের অবদান চিরস্মরণীয়: আবু সুফিয়ান বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে ড. শহীদুল্লাহ একাডেমীতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় দক্ষতা বাড়াতে রাঙ্গামাটিতে স্পেশালাইজড হিল ড্রাইভিং ট্রেনিং আইনজীবীরা সমাজে আইনের প্রতিচ্ছবি: বিচারক হাসানুল ইসলাম আশ-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে ফি আদায়ে অভিভাবকদের ভোগান্তির অভিযোগ ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়, নাঙ্গলমোড়া মাদরাসায় নতুন প্রত্যয় বাঁশখালীর রাজনীতিতে উত্তাপ নয়, সহনশীলতা চান পাপ্পা কাপ্তাইয়ে বিজিবির অভিযানে দেশীয় মদের অবৈধ কারখানা, জব্দ ৫.৯১ লাখ টাকার মালামাল রাঙ্গামাটিতে প্রযুক্তির সহায়তায় ৬১ হারানো মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে হস্তান্তর
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

বাঁশখালীর রাজনীতিতে উত্তাপ নয়, সহনশীলতা চান পাপ্পা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: / ৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাঁশখালীর রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।

তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও হুমকি, উসকানি কিংবা অশালীন বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্য দিয়েই বাঁশখালীর রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি রাজনীতি করে।’ তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করা অনেকেই এখন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অস্বাভাবিক নয়। তবে এ কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি, উসকানি কিংবা অশালীন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘বাঁশখালীর মানুষ সংঘাত চায় না, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই না, যার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কিংবা কোনোভাবে বিব্রত করা উচিত নয়। সরকারি কর্মকর্তারা যাতে নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও দায়িত্ব।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং উপস্থিত সবাইকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়েছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেকের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি। অন্যদিকে, অতীতে অন্য রাজনৈতিক নেতার বাঁশখালী সফরের সময় বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ না করা হলেও তারা সেটিকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করতে চাননি।

পাপ্পা বলেন, ‘আমরা বাঁশখালীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। দল-মত নির্বিশেষে এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং একই সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার বিষয়েও তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, জনগণের স্বার্থে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জায়গায় গণতান্ত্রিকভাবে সমালোচনা করা যেতে পারে; কিন্তু পরস্পরবিরোধী অবস্থান জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। বিকেল ৫টার দিকে বিভিন্ন মিছিল একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করে। পরে মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার দারোগা বাজার এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার মুহাম্মদ লোকমানের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুস সবুর, জেলা জিপি অ্যাডভোকেট কাশেম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য দেলোয়ার আজিম, সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসিন, চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দীন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম আস্করি, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট লায়ন নাছির উদ্দীন, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম আইয়ুব, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম আবদুল হক, অধ্যাপক মুবিনুর রহমান চৌধুরী ও জাহেদুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল ও ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ থেকে বাঁশখালীর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক ও সামাজিক সব পক্ষকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ