চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে অবস্থিত আশ-শেফা স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের ফি ও বেতন পরিশোধ করতে গিয়ে অভিভাবকদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট দিনে ফি নেওয়া, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং পরিশোধ প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে অনেক অভিভাবক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন নিয়েও অনেক অভিভাবকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা তাদের দায়িত্ব। তবে এসব ফি পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রবিবার নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুইজন অভিভাবক সন্তানদের ফি ও বেতন পরিশোধ করতে বিদ্যালয়ে গিয়ে তা দিতে পারেননি বলে জানান। তাদের একজন প্রবাসী এবং অপরজন কেরানীহাট নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী।
নিউমার্কেটের ওই ব্যবসায়ী বলেন, “ব্যবসার কারণে সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সময় বের করে বৃহস্পতিবার সন্তানদের বেতন দিতে স্কুলে এসেছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার ফি দিতে হবে। রবিবার আবার ব্যবসায়িক কাজে ঢাকার বাইরে থাকতে হবে। এখন কী করার আছে? সন্তান স্কুলে পড়ে, তাই শেষ পর্যন্ত অন্যভাবে ফি পরিশোধ করতে হবে।”
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রবাসী অভিভাবক কাইছার বলেন, “শুক্রবার বিদেশে চলে যাব। তাই যাওয়ার আগে সন্তানদের ফি-বেতন পরিশোধ করতে স্কুলে এসেছিলাম। কিন্তু অফিস থেকে ফি নেয়নি। তারা রবিবার আসতে বলেছে। শুক্রবার চলে যাওয়ার পর রবিবার আবার কীভাবে আসব? বিষয়টি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এখন অন্য কারও মাধ্যমে ফি দিতে হবে।”
অভিভাবক মোহাম্মদ রিদুওয়ান বলেন, “সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া নিয়ে কষ্ট হয়, তার চেয়েও বেশি ভোগান্তি হয় ফি-বেতন দেওয়ার সময়। রবিবার সকাল ১০টার দিকে ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি এসে ফি নেন। তখন অনেক অভিভাবক একসঙ্গে অপেক্ষা করেন। একজন একজন করে ফি দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নারী অভিভাবকের সংখ্যাও বেশি হওয়ায় ভিড়ের মধ্যে তাদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য ফি সংগ্রহ করে অফিসের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। এতে অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।”
অভিভাবকদের দাবি, ফি ও বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের নিজস্ব অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত ফি গ্রহণ কিংবা অনলাইন/ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থা করা হলে অভিভাবকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে আশ-শেফা স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, “অভিভাবকদের হয়রানির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ফি ও বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে পরীক্ষার আগে রবি থেকে বৃহস্পতিবার টানা ৫ দিন ব্যাংক প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি-বেতন গ্রহণ করবেন বলে জানান।
অভিভাবকরা আশা করছেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি দূর করবে।