দেশব্যাপী এডিস মশার প্রকোপ ও ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন চত্বর ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এলাকায় এ সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নবনিযুক্ত মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলাম, পিইঞ্জ।
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্টেশন চত্বর, প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ, ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার এবং সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি মশক নিধনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কীটনাশক স্প্রে ও ফগিং করা হয়।
অভিযান চলাকালে স্টেশনে আসা যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় যাত্রীদের এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।
অভিযান পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম বলেন, “রেলওয়ে স্টেশন একটি জনবহুল স্থান। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে আমাদের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। ফলে এসব এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশন ও স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ নির্দেশনায় আয়োজিত এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভীরুল ইসলাম, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম), পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়া কর্মসূচিতে রেলওয়ে শ্রমিক দলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও শাখা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন এবং জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি রেলওয়ের প্রতিটি স্থাপনায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।