পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ, দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা এবং বৈষম্যহীন স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলী এলাকার মৃধা ভবনে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপির নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, নিরাপত্তা, শান্তি, সম্প্রীতি ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি’ এবং ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি’ গঠন করেছে। তাদের মতে, পাহাড়ের সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নেতারা বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে অতীতে কোনো সরকার এ ধরনের তিন স্তরের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেনি। এসব কমিটি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করলে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও সমন্বয় সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
পিসিএনপির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
তাদের ভাষ্য, নতুন তিন কমিটির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক, নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগের সুফল যাতে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষও পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, অধিকার ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার পথে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ সময় পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. হাবীব আজম, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনসহ পিসিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাহাড়ের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
পরে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সময় ও সহযোগিতার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।