রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু)কে সম্মাননা স্মারক প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য করা হবে না এবং পার্বত্য অঞ্চলের সব জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জেলা পরিষদ কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সম্মাননা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, রাঙামাটি জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। পার্বত্য অঞ্চলের সব জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন গঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কাজ করবে। কোনো জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা হবে না বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সরকারের ওপর জনগণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
দীপন তালুকদার বলেন, গত ১৭ বছরে রাঙামাটির অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বিসিক কুটির শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। একসময় প্রতিষ্ঠানটিতে ৮৫ জন জনবল থাকলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র ১৬ জন কর্মরত রয়েছেন বলে জানান তিনি। জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোও পর্যায়ক্রমে কার্যকর ও গতিশীল করে জেলার উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চেয়ারম্যান।
তিনি আরও বলেন, জেলার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জেলার সব জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বৈষম্যহীনভাবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাঙামাটিতে বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় জেলার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ন্যায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাথেরো, উপদেষ্টা সমরজিত বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির অরবিন্দ্র বড়ুয়া, রাঙামাটি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি উদয়ন বড়ুয়া ও নয়ন বিকাশ বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক অপু বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক ডা. প্রকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, রাঙামাটি পৌর কমিটির সভাপতি শিপু রঞ্জন বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, পৌর ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা স্মারক প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাঙামাটি শহরের আসামবস্তী এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কার্যালয়ে সংগঠনের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু)কে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পুনর্গঠিত পরিষদে সদস্য হিসেবে রয়েছেন—শাশ্বত চাকমা, বিল্টু চাকমা, সুবিমল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, উথোয়াইমং মারমা, পাইচিং মং মারমা, প্রেমা তালুকদার, তিমথী খিয়াং, সুপর্ণ দেব বর্মণ, মোহাম্মদ মানুনুর রশিদ, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, নন্দিতা দাশ ও চন্দ্রা চাকমা।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়।