শিরোনাম
আন্তর্জাতিক বাজারে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রির সুযোগ, CWCCI-আলিবাবার সমঝোতা সাজেকে শান্তিলাল হত্যা: ভিকটিমের ভাতিজা ও ছেলের মৃত্যুদণ্ড লোহাগাড়ায় দৈনিক দিনকালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার তাগিদ- ইউএনও বায়েজিদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড শোকাহত পরিবারের পাশে চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান খলিফাপট্টি যুব সমাজের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল রাউজানে করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ, আপত্তিতে দোহাজারী-ধোপাছড়ি বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ায় বাঁশখালীর ক্রিকেটার তানভীরকে উপজেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা ১,৫১৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন, বেড়েছে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ, আপত্তিতে দোহাজারী-ধোপাছড়ি

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি পৃথক উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত ছয় ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের উদ্যোগে আগ্রহ তৈরি হলেও এতে আপত্তি জানিয়েছেন দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, সাতকানিয়ার ছয় ইউনিয়নের সঙ্গে দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে যুক্ত করে দোহাজারীকেন্দ্রিক নতুন উপজেলা গঠন করা হোক।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-১ শাখা থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চিঠিতে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনের আওতাধীন সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন আলাদা উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ছয় ইউনিয়ন হলো—কেঁওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরানগড় ও খাগরিয়া। সরকারি নির্বাচনী নথিতেও এসব ইউনিয়নকে চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন আহমেদের পাঠানো ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এলাকার জনসংখ্যা, আয়তন, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সুবিধা, স্থানীয় রাজস্ব ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রস্তাবটি স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

সাতকানিয়া উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ছয় ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৬ জন। এর মধ্যে কেঁওচিয়া ইউনিয়নে ৩৫ হাজার ৬৩৮, খাগরিয়ায় ৩০ হাজার ৭০২, কালিয়াইশে ২২ হাজার ৭৬৯, বাজালিয়ায় ২১ হাজার ৫৪৮, পুরানগড়ে ২১ হাজার ৬৮ এবং ধর্মপুর ইউনিয়নে ১২ হাজার ৮৮১ জন বসবাস করেন।

প্রস্তাবিত ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগকে ঘিরে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ নতুন উপজেলার নাম ‘উত্তর সাতকানিয়া’ রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মৌলভীর দোকান থেকে সাঙ্গু সেতুর আগে পর্যন্ত যোগাযোগ ও ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক কোনো স্থানে উপজেলা সদর স্থাপন করা হলে ছয় ইউনিয়নের মানুষের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ সহজ হবে।

তাদের দাবি, বর্তমানে সাতকানিয়া উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে সময় ও অর্থ ব্যয় করে যাতায়াত করতে হয়। পৃথক উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে ভূমি প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজসেবা, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা জনগণের আরও কাছে পৌঁছাবে এবং ভোগান্তি কমবে।

তবে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবকে ঘিরে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শুধু ছয় ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠন না করে দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নকেও এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এ ক্ষেত্রে দোহাজারী রেলস্টেশনের আশপাশে নতুন উপজেলা সদর স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দোহাজারী পৌরসভায় প্রায় ৭০ হাজার এবং ধোপাছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার ২০০ জন মানুষের বসবাস রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, ছয় ইউনিয়নের সঙ্গে দোহাজারী ও ধোপাছড়িকে যুক্ত করা হলে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক পরিধির দিক থেকে একটি কার্যকর প্রশাসনিক ইউনিট গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দোহাজারীর সড়ক ও রেল যোগাযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর এলাকার মানুষের জন্য প্রশাসনিক সেবা আরও সহজ করা সম্ভব হবে।

এ কারণে নতুন উপজেলা সদর কোথায় হবে এবং কোন কোন এলাকা এর আওতাভুক্ত হবে—এ দুটি বিষয়কে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও মতভেদ তৈরি হয়েছে। একদিকে ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দারা উত্তর সাতকানিয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে দোহাজারী ও ধোপাছড়ির বাসিন্দারা বৃহত্তর এলাকা নিয়ে দোহাজারীকেন্দ্রিক উপজেলা গঠনের দাবি তুলেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে শুধু জনসংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণের সুবিধা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সম্ভাব্য প্রশাসনিক ব্যয় এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে প্রস্তাবিত সীমানা ও সদর দপ্তরের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রস্তাবটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করবে। পরে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ তা স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। সব প্রক্রিয়া শেষে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণে মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে প্রস্তাবিত এলাকার সীমানা ও সদর দপ্তর নির্ধারণের আগে ছয় ইউনিয়ন, দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নের মানুষের মতামত এবং ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও উপপরিচালক, সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ