রাউজানে প্রকাশ্যে সংঘটিত বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, এয়ার গান, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)।

পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান থানার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে আসা একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিমকে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত করিম উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ১০টি মামলা ছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় পারভেজ করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন। করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালে পারভেজ ক্ষুব্ধ হন। পরে ঘটনার দিন কৌশলে নিজের সোর্সের মাধ্যমে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনা হয়। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে।
পুলিশ প্রথমে চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে রাখা হয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই ফার্মে অভিযান চালানো হয়। আসামিদের দেখানো ও তাদের নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ফার্মের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা একটি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় এয়ার গান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
এদিকে মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মো. পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে থানা রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই করে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পূর্বের হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
গ্রেপ্তার চার আসামি এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পলাতক পারভেজসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।