শিরোনাম
হালিশহরে সাংবাদিককে জিম্মি করে মারধর, বিকাশ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ লোহাগাড়ায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আইন ও র‍্যাম্পে ইভার স্বপ্নযাত্রা প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন আজ: পিতার আদর্শে মানুষের পাশে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা চন্দনাইশে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু চন্দনাইশে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত চট্টগ্রামে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল খেলার সামগ্রী উপহার দিলেন যুব সংগঠক রাজিব শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য, বাড়ছে মার্সালো-আস্তা-ব্ল্যাকবেবির চাহিদা সাতকানিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ২৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী ‘সফট স্কিলস’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা হওয়ার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা আইসিটি অফিসার আনোয়ার পলাশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ।

সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ দিন প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫৭টি জেলার ১৫০টি উপজেলায় ১০ ধরনের প্রান্তিক পেশায় নিয়োজিত মোট ১২ হাজার পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাতকানিয়া উপজেলায় প্রথম ব্যাচে ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক কর্মপদ্ধতি, পেশাগত আচরণ, গ্রাহকের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, সময় ব্যবস্থাপনা, সমস্যা সমাধানের কৌশল, ব্যবসা পরিচালনা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কর্মজীবনে ইতিবাচক আচরণ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রান্তিক পেশাজীবীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ পেশায় যুক্ত থাকলেও আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশল, গ্রাহকসেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তাদের আয় ও পেশাগত বিকাশ অনেক সময় সীমিত থাকে। এ কারণে শুধু কারিগরি দক্ষতা নয়, যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনার মতো সফট স্কিলস উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক পেশাজীবীদের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা তৈরি করা। প্রশিক্ষণার্থীদের নিজস্ব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ ভাতার পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এককালীন ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে এককালীন অনুদানের ডামি চেক এবং প্রশিক্ষণ সনদ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক পেশাজীবীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে শুধু ব্যক্তিগতভাবে তারা স্বাবলম্বী হবেন না, একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানও বাড়বে। সফট স্কিলস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাজীবীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ ও অনুদানের যথাযথ ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ পেশার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ