বোয়ালখালী প্রতিনিধি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম খসরু পারভেজের অবসর গ্রহণের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বহাল থাকায় এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা এস এম খসরু পারভেজের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, এফডিআর ভাঙানো, স্কুল মার্কেটের দোকান বরাদ্দ, মূল্যবান গাছ বিক্রি এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন নারী শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে এস এম খসরু পারভেজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর সর্বশেষ কর্মদিবস ছিল গত ৩১ আগস্ট। অভিযোগকারীদের দাবি, অবসরের তারিখ পার হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর করে তাঁর সরে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি এখনো প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে রয়েছেন।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় প্রধান শিক্ষকের পদ, দায়িত্ব এবং নিয়োগসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও ২০২৪ সালে নীতিমালার ১১.১১ অনুচ্ছেদে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে।
তবে গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অবসর-পরবর্তী সময়ে এস এম খসরু পারভেজ কী ধরনের লিখিত অনুমোদন বা বৈধ আদেশের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকদের একটি অংশ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে একই ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এমনকি অবসরের পরও তাঁকে দায়িত্বে রাখার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম খসরু পারভেজ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনে আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি আমাকে রিলিজ দিচ্ছে না। তারা বলেছেন, এমপির ডিও লেটার ও মাউশির অনুমোদন এনে দেবেন। অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পেলে থাকব, না পেলে চলে যাব।”
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শওকত আলমের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান/ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এস এম খসরু পারভেজের নাম এসেছে। ২০২৫ সালের অভিভাবক সমাবেশেও তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, অবসর-পরবর্তী দায়িত্ব পালনের বৈধতা, বিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।