মিজানুর রহমান রুবেল, সাতকানিয়া চট্টগ্রাম সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতকানিয়া রিসোর্ট কমপ্লেক্সে আলহাজ্ব সফিয়া মমতাজুল হক বাশার ট্রাস্টের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাশার গ্রুপ ও হোটেল সি-ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও আবুল বশর আবু। প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব দাশ পুরকায়স্থ।
প্রধান আলোচক ছিলেন মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক শফিউল্লাহ কুতুবী, সাতকানিয়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম, মাওলানা নুরুল আলম ফারুকী, আবু তাহের হারুনর রশীদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল বশর আবু বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার যথাযথ স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। একটি ভালো ফলাফল শুধু পরীক্ষার সনদ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষার্থী, পরিবার ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মেধা ও জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব দাশ পুরকায়স্থ কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের এ সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ ও পরিশ্রম রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে অভিভাবকেরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরলসভাবে কাজ করেন। তাই শিক্ষার্থীদের কখনো বাবা-মায়ের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, “তোমাদের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম রয়েছে। তারা তোমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাই কখনো বাবা-মায়ের অবদান ভুলে যেও না। তাদের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তাদের মুখে হাসি ফোটাবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে জীবনের সাফল্য নির্ধারিত হয় না। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যৎ জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে এখন থেকেই নিজেদের চরিত্র ও মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।
মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে ইউএনও বলেন, মাদক একটি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নষ্ট করার পাশাপাশি একটি পরিবারের স্বপ্নকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই মাদকমুক্ত জীবন গড়ে তুলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তবে এর অপব্যবহার তাদের বিপথগামী করারও কারণ হতে পারে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনের ভালো দিকের পরিবর্তে ক্ষতিকর দিকের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ও সংযতভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এসএসসি বা দাখিল পরীক্ষার ফলাফল জীবনের শেষ নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের দীর্ঘ পথচলার একটি ধাপ মাত্র। সামনে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্যায়ন ও শ্রদ্ধাবোধকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তারা বলেন, একটি মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—তিন পক্ষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকরাও আনন্দ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।