চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জমজমাট ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মেলা। স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় দোহাজারী পৌরসভায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন পাঠানি ব্রিজ এলাকার আলোকিত কনভেনশন হল প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ।
উদ্বোধনকে ঘিরে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। মেলায় স্থানীয় ও গ্রামীণ পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছেন। ফলে উদ্বোধনের দিন থেকেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ রকি ও এম নাজিম উদ্দিন বখতিয়ার-এর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শাকিব, কামাল উদ্দিন, সাফায়েত, শাহেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরাও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এ আয়োজনের মাধ্যমে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য এ ধরনের আয়োজন ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এ মেলার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে তরুণদেরও উৎসাহিত করবে এ ধরনের আয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ক্রেতা-উদ্যোক্তার সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে মেলার মতো আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাসব্যাপী এ মেলা শুধু পণ্য কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং চন্দনাইশ ও আশপাশের এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নতুন বাজার ও যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করবে। পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও মেলাটি হয়ে উঠবে আনন্দ, কেনাকাটা ও স্থানীয় পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি আকর্ষণীয় আয়োজন।