শিরোনাম
বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান, বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব পটিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, পরিচয় শনাক্ত হয়নি চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারে কোস্ট গার্ডের সমন্বয় সভা সন্দ্বীপের উড়িরচরে কোস্ট গার্ডের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপকৃত ৪৪৫ জন লোহাগাড়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রস্তুতি স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের আওয়ামী ফ্যাসিবাদ নিয়ে চাকসুর ‘নির্যাতনের দাগ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন চাকসুর “আজাদীর ইতিবৃত্ত” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন সাতকানিয়ায় মামলার পুনঃতদন্ত দাবি, সিসিটিভি দেখে অপরাধী শনাক্তের আহ্বান স্বজনদের সন্দ্বীপে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে তালুকদার পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান, বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি। এ বিষয়ে দুই দেশের অর্থমন্ত্রী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা (Satsuki Katayama) এবং সহকারী অর্থমন্ত্রী মিমুরা আতসুসির (Mimura Atsushi) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়া এবং সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং নতুন উন্নয়ন উদ্যোগে দুই দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো নির্মাণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বিকল্প অর্থায়ন (Alternative Financing)। প্রচলিত সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) বাইরে বিভিন্ন বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বহুমুখী করার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।

এ সময় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং নতুন নতুন খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখে আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার গুরুত্বও প্রতিফলিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, নগর উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। জাপানের অর্থায়নে বাংলাদেশে অতীতে বেশ কয়েকটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন চুক্তির মাধ্যমেও দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদা এবং জাপানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। টোকিওর এ বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ