দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। স্মরণকালের ভয়াবহ এ দুর্যোগে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাঁশখালীর তরুণ চিকিৎসক ডা. আসিফুল হক ও তার সামাজিক সংগঠন।
চট্টগ্রামে গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ডের পর সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছনুয়া, শেখেরখিল, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, সাধনপুর ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এছাড়া কালীপুর, বৈলছড়ী, কাতারিয়াসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে যায়।
বন্যার কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামগুলোর সংযোগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন অনেক পরিবার। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকট।
এমন দুর্যোগে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছেন ডা. আসিফুল হক। তিনি ও তার সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।
বুধবার তিনি বাণীগ্রাম বাজারের পূর্ব পাশের পাহাড়ি নিম্নাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পরে সন্ধ্যায় চেচুরিয়া কুলাল (কুলীন)পাড়া এলাকার ৪০টি পরিবারের হাতে শুকনো খাবার পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে চেচুরিয়া বাজারের পূর্বাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ডা. আসিফুল হক বলেন, “বাঁশখালীর ভয়াবহ পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের খবর পেয়ে আমি চট্টগ্রাম শহর থেকে ছুটে এসেছি। প্রিয় জনপদের মানুষের কষ্ট দেখে শহরে বসে থাকতে পারিনি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আগামীকালও আমার সামাজিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র, দুস্থ ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ডা. আসিফুল হকের এমন মানবিক উদ্যোগ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। তাঁর এই কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।