ঢাকা থেকে ভারতের চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করার অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক যাত্রীর অভিযোগ ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী,১২ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত ফ্লাইটটি প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা বিলম্বে, সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে এবং রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ভারতের চেন্নাই পৌঁছায়।
ফ্লাইটের যাত্রী শামিয়া শতাব্দী ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রীদের বিমানে উঠিয়ে নেওয়া হলেও উড্ডয়নের আগে থেকে শুরু করে পুরো যাত্রাপথে বিমানের এসি চালু ছিল না। তার দাবি, বিমানে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাইগামী ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোকের রোগী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের অনেকেই প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি নিজেও অ্যাজমার রোগী হওয়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া একজন রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু শামিয়া শতাব্দীই নন, ফ্লাইটে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রীও ফেসবুকে একই ধরনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে যাত্রীরা নিজেদের হাতে থাকা সেফটি কার্ড, কাগজ ও ম্যাগাজিন দিয়ে বাতাস করছেন। অনেককে অস্বস্তিতে নড়াচড়া করতে এবং শিশুদের কান্নাকাটি করতেও দেখা যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বিলম্বের কারণ হিসেবে প্রথমে বৈরী আবহাওয়া, পরে কারিগরি ত্রুটি এবং এরপর জ্বালানি সংকটের কথা জানানো হয়। তবে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ফ্লাইটটি কেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি? এসি ঠিকমতো কাজ না করলে সেই অবস্থায় যাত্রীদের নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো? বিকল্প বিমান বা অন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না কেন? বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণরত রোগী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল?
এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “এসি ঠিকমতো কাজ না করার কারণে এমন হয়েছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রাখব।”
তবে তিনি ফ্লাইট বিলম্বের বিস্তারিত কারণ, বিকল্প বিমান ব্যবহারের বিষয় কিংবা যাত্রীদের অভিযোগের অন্যান্য দিক সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনার পর অনেক যাত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যাত্রীদের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।