কক্সবাজার থেকে ঢাকায় প্রাইভেট কারে অভিনব কৌশলে ইয়াবা পাচারের সময় ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুই পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে পলাশ মাহমুদ (৩৬), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার পূর্ব কলমেরশর এলাকার মৃত মো. রহমান খানের ছেলে মো. সজীব মিয়া (২৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বিদ্যাবল্লভ গ্রামের ওমর আহমেদের মেয়ে সাদিয়া আক্তার (২৪) এবং একই এলাকার ফারুক আহমেদের মেয়ে নুসরাত জাহান ইভা (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহর নির্দেশনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোবিন্দ দাশের নেতৃত্বে জাঙ্গালিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেট কারকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ।
তবে পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়িটির চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গাড়িটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির একপর্যায়ে প্রাইভেট কারটির পেছনের বাম পাশের সিটের নিচে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে লুকিয়ে রাখা ৪০টি সবুজ রঙের পলিথিনের প্যাকেট থেকে মোট ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পরে প্রাইভেট কারে থাকা চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও জব্দ করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রাইভেট কারে পাচারকালে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবা ও পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।