শিরোনাম
সীতাকুণ্ড থেকে আনোয়ারা, ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে চট্টগ্রামের নগরচিত্র ৬ ইউনিয়ন নিয়েই উত্তর সাতকানিয়া থানা, অন্য এলাকা নয় ৩৫ বছর ধরে বসবাস, উচ্ছেদে বাধা: সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের অভিযান স্থগিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ থেকে এখন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এ্যানি অটোমেশনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর, তবু কমছে না হয়রানি টেন্ডারে বাদ, পরে অপারেটর—কীভাবে? কুতুবদিয়া-বহির্নোঙরে জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বিরোধ পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ৮ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা গ্রেফতার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চন্দনাইশ পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, চিহ্নিত ৯ ওয়ার্ডের নানা সমস্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

বছর ঘুরলেই বন্যা-ভাঙনের আতঙ্ক, সাতকানিয়ায় নদীশাসনের দাবি

সাতকানিয়া প্রতিনিধি চট্টগ্রাম / ১৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র ভাঙনের কারণে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার অর্ধডজন ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় ভাঙতে থাকায় প্রতিবছরই নতুন করে দুর্ভোগে পড়ছেন নদীপাড়ের হাজারো পরিবার। টেকসই ও স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা এলেই বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না তোলায় প্রতিবছরই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রায় ১ থেকে ২ কিলোমিটার নদীতীর এলাকায় ৩ থেকে ৪ ফুট ঢালাই স্পারসহ প্রয়োজনীয় নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করা হলে বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নাইমউদ্দীন বলেন, “১৯৯৭ সালে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বছর আসে, বছর যায়; কিন্তু নদীপাড়ের মানুষ পানিবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।”

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ে। অনেক পরিবারকে প্রতিবছরই পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ, স্পার ও প্রয়োজনীয় নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সাতকানিয়ার অসংখ্য পরিবার বন্যা ও নদীভাঙনের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নদীর গতিপথ ও ভাঙনের ধরন বিবেচনা করে টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীতীর সংরক্ষণ করা হলে প্রতিবছরের বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে নদীভাঙন ও বন্যার স্থায়ী সমাধানে পানি মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীভাঙনের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মুহাম্মদ নাইমউদ্দীন বলেন, “নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। স্থায়ী বাঁধ ও নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করা হলে শুধু একটি এলাকার মানুষ নয়, সাতকানিয়ার বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী প্রতিবছরের বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।”

তিনি নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ