চট্টগ্রাম নগরের জিইসি এলাকার আল-হেলাল হোটেল এণ্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরার নেতৃত্বে হোটেলটিতে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে হোটেলটির রান্নাঘর, স্টোর রুম, ফ্রিজারসহ বিভিন্ন অংশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর অনিয়ম দেখতে পান কর্মকর্তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, হোটেলটির রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার বিচরণ, স্টোর রুমে বিড়ালের বিচরণ এবং খোলা অবস্থায় ডাস্টবিন পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফ্রিজারে রান্না করা ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া হোটেলটির ফ্লোর স্যাঁতসেঁতে ও ভাঙা অবস্থায় ছিল। সংরক্ষণ করা হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ঘি। একই সঙ্গে পোড়া তেল ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টিও অভিযানে ধরা পড়ে।
কর্মকর্তারা এসব অনিয়মকে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি চৌকস দল অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নগরের হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।এটি চাইলে হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।