বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে তিন দিন ধরে ভাসমান অবস্থায় থাকা একটি মাছ ধরার বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উত্তাল সাগর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা কপোতাক্ষ’ অভিযান চালিয়ে জেলেদের নিরাপদে উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত জেলেদের বোটসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রে সুশাসন বজায় রাখতে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে নৌবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট টহল কার্যক্রম পরিচালনার সময় মোংলা ফেয়ারওয়ে বয়ের কাছাকাছি ভাসমান অবস্থায় মাছ ধরার বোট ‘এফবি আল আমিন’ দেখতে পায় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা কপোতাক্ষ’। বোটটিতে ১৬ জন জেলে ছিলেন।

এর আগে ২৩ আগস্ট রাতে টহল চলাকালে নৌবাহিনী জাহাজ কপোতাক্ষ বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান থাকার তথ্য পায়। খবর পাওয়ার পরপরই রাতের আঁধারে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে নৌবাহিনী। পরদিন সকালে প্রচণ্ড ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও বোটটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে নৌবাহিনীর জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসমান ‘এফবি আল আমিন’ বোটটি ১৬ জন জেলেসহ উদ্ধার করে। এ সময় জেলেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকা থেকে ১৬ জন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ‘এফবি আল আমিন’ নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দেন। সমুদ্রে যাওয়ার দুই দিন পর বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর ইঞ্জিন সচল না হওয়ায় তারা প্রায় তিন দিন ধরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলেন।
এদিকে, উত্তাল সাগর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।
উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে নৌবাহিনী জাহাজ ‘বানৌজা কপোতাক্ষ’ ইঞ্জিন বিকল বোটটিকে টোয়িং করে সুন্দরবন সংলগ্ন হিরণ পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে বোটসহ ১৬ জেলেকে নিরাপদে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নৌবাহিনীর এ অভিযানে একদিকে যেমন সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত জেলেদের জীবন রক্ষা পেয়েছে, অন্যদিকে দেশের সমুদ্রসীমায় নিয়মিত টহল ও উদ্ধার কার্যক্রমের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে। সমুদ্রে বিপদে পড়া জেলে ও নৌযানকে দ্রুত শনাক্ত করে উদ্ধার এবং নিরাপদে তীরে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত নৌযান ও জেলেদের উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।