খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার যামিনীপাড়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ম্যাগাজিনসহ দুটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি এবং প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭/১৮ আগস্ট গভীর রাতে যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক একটি বিশেষ টহলদল নিয়ে মাটিরাঙ্গার গৌরাঙ্গপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপন করেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে পানছড়ির দিক থেকে দুই আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল চেকপোস্টের দিকে আসতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা মোটরসাইকেলটিকে থামার সংকেত দিলে চালক প্রথমে গতি কমিয়ে দেয়। তবে চেকপোস্টে বিজিবি সদস্যদের দেখে পরক্ষণেই মোটরসাইকেলটি দ্রুত ঘুরিয়ে তাইন্দংয়ের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবির টহলদল তাদের ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাওয়া শুরু করে। প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ধাওয়া করার পর মোটরসাইকেলটি মূল সড়ক ছেড়ে বিরাশিটিলার দিকে একটি সরু সড়কে প্রবেশ করে।
এ সময় বৃষ্টি, কাদাযুক্ত রাস্তা, অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ ও সরু সড়কের কারণে বিজিবির টহল পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। এই সুযোগে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রাস্তার পাশের একটি কালভার্টের নিচে মোটরসাইকেলটি ফেলে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিত্যক্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। মোটরসাইকেলের সিটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ম্যাগাজিনসহ দুটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি, মাদক ও মোটরসাইকেল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ এবং পাচার ঠেকাতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার রয়েছে। মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।