শিরোনাম
পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন আবু হেনা চৌধুরী বহুমুখী দায়িত্বে সাফল্য, মানবিকতায় প্রশংসিত—সাতকানিয়া ছাড়ছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান দক্ষিণ চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে নাগরিক পার্টির মতবিনিময় রিয়াযুল উলুম বালক-বালিকা মাদ্রাসায় কুরআন মাজিদের সবক প্রদান ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চান্দগাঁও-মুরাদপুরে জোবাইরুল হাসান আরিফের শরবত-তাবারুক বিতরণ জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমানের ফ্লাইট মাস্কাটে জরুরি অবতরণ, বাংলাদেশি যাত্রীর মৃত্যু সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা? চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্বহাল, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাংগঠনিক স্বস্তি সৌদিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, মানবপাচার চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্বহাল, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাংগঠনিক স্বস্তি

জাহাঙ্গীর আলম / ৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহাল করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। একই সঙ্গে মহানগরের অধীনস্থ সব থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের কমিটিও পুনর্বহাল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির সিদ্ধান্তে এ পুনর্বহাল কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের এ সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। ২০১৮ সালের ১ জুন মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সাহেদকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই কমিটি ২৩১ সদস্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণের কারণ দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে মহানগরের অধীন বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোও সাংগঠনিকভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

তবে কমিটি বিলুপ্ত থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, মিছিল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। কমিটি না থাকায় আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের প্রশ্ন থাকলেও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দলীয় কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেননি।

বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিতে মহানগর যুবদল, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যুবদলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। ফলে সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ে সংগঠনের কর্মকাণ্ড কার্যত অব্যাহত ছিল।

দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের অনেক নেতাকর্মী মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের একটি অংশ পরবর্তীতেও সাংগঠনিক পরিচয় ছাড়াই দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ফলে কমিটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এসব নেতাকর্মীর মধ্যে নতুন করে সাংগঠনিক গতি ফেরার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের অতীত রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি কিছু বিতর্কও ছিল। কমিটি বিলুপ্তির সময় দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মহানগর যুবদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতেও দখল, চাঁদাবাজি ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল। ফলে বর্তমান কমিটি পুনর্বহালের পর দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সংগঠনকে দূরে রাখার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় নগর যুবদলের তৃণমূল পর্যায়েও সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল বলে নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন কর্মী সৃষ্টি, পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং দলীয় কর্মসূচিতে সমন্বিত অংশগ্রহণে নেতৃত্বের ঘাটতি ছিল। কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে মহানগরসহ সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি পুনর্বহাল হওয়ায় এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, পুনর্বহাল কমিটিতে দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সংগঠনে যুক্ত করে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, দখল, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সংগঠনের নাম ব্যবহার না করে দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে তৃণমূলের।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে যুবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন। বন্দরনগরীর ৪১টি ওয়ার্ড ও সংশ্লিষ্ট থানা পর্যায়ে সংগঠনটির বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। ফলে মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্বহাল শুধু নেতৃত্বের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণেরও সুযোগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তিত বর্তমান বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে পুনর্বহাল কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার পর ২৫ আগস্টের পুনর্বহাল সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন পদ-পদবির বাইরে থেকেও যারা মাঠের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন, তাদের জন্য এটি যেমন সাংগঠনিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা তৈরি করেছে, তেমনি নেতৃত্বের জন্য সামনে এসেছে বড় দায়িত্ব। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তৃণমূলের ঐক্য এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে পুনর্বহাল কমিটি চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলকে নতুন করে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ