রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় মদ তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়েছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)। এ সময় কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ তৈরির সরঞ্জাম, ৩০ লিটার তৈরি দেশীয় মদ এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার মদ তৈরির জন্য সংরক্ষিত কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার বৈরাগী পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালসের নেতৃত্বে এবং নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের তত্ত্বাবধানে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কুকিমারাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৈরাগী পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একটি দেশীয় মদ উৎপাদনের অবৈধ কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানের সময় কারখানাটিতে কোনো মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। পরে কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে মদ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রস্তুতকৃত মদ জব্দ করা হয়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩টি জেনারেটর, ১২টি প্লাস্টিকের ড্রাম, ১৫০টি সিলভারের হাঁড়ি, রাসায়নিক উপকরণসহ ৩টি বৈয়ম এবং ৩০ লিটার তৈরি দেশীয় মদ। পাশাপাশি মদ তৈরির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার কাঁচামালও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় গোপনে দেশীয় মদ উৎপাদন ও বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারখানাটির সঙ্গে কারা জড়িত এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিচালিত হয়ে আসছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) সূত্র আরও জানায়, অভিযানে জব্দ করা ৩০ লিটার তৈরি মদ এবং মদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। জব্দকৃত মদ ও অন্যান্য উপকরণ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশের মাধ্যমে ধ্বংস করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় অবৈধভাবে দেশীয় মদ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।চাইলে এটিকে আমি আরও পেশাদার দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টিং স্টাইলে, আকর্ষণীয় শিরোনাম–উপশিরোনামসহ সাজিয়ে দিতে পারি।