শিরোনাম
আট মাসে ৩ হাজার ৬২০ পিটিসিএ, দক্ষতা বাড়াতে তরুণ চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রাউজানে গোল্ড মেডেল বৃত্তি পেল ৪ শিক্ষার্থী, পুরস্কৃত ৪০০ রাঙ্গামাটিতে অপরাধ পর্যালোচনা সভা, পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা দিকনির্দেশনা ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে রেলওয়ের বিশেষ মশক নিধন অভিযান পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ উচ্চপর্যায়ের কমিটি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পিসিএনপির কৃতজ্ঞতা বাঁশখালীতে মাওলানা আশেক এলাহীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে জিএম মামুনুল ইসলাম প্রফেসর ড. কে এম মোহসীন স্মারক বক্তৃতায় বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চবিতে ব্যানার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত শিক্ষার্থী নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

আট মাসে ৩ হাজার ৬২০ পিটিসিএ, দক্ষতা বাড়াতে তরুণ চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

জটিল হৃদরোগ চিকিৎসায় চট্টগ্রামের সক্ষমতা বাড়ছে / ২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জটিল হৃদরোগের চিকিৎসায় ক্রমেই সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রামের। আধুনিক ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি চিকিৎসার বিস্তারের ফলে এ অঞ্চলে বাড়ছে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসার সুযোগ ও রোগীসেবার পরিধি। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে ১২ হাজার ১টি কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেস সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পিটিসিএ (এনজিওপ্লাস্টি/স্টেন্টিং) হয়েছে ৩ হাজার ৬২০টি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পিটিসিএর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেস বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের সিএসসিআর ক্যাথল্যাব ও রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামে আয়োজিত দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি) ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন (বিএসসিআই) যৌথভাবে ‘সিএমই অন কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল অ্যাবট ভাস্কুলার।

সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে মোট ১৭ হাজার ২০টি কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেস এবং ৪ হাজার ৯৪৪টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই বিভিন্ন ধরনের কেস হয়েছে ১২ হাজার ১টি। এর মধ্যে পিটিসিএ হয়েছে ৩ হাজার ৬২০টি। সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম আট মাসে ৭৮৬টি পিটিসিএ হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে সিএসসিআরে ৬৭১টি, ম্যাক্স হাসপাতালে ৬৩৭টি, চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫৪৩টি এবং পার্কভিউ হাসপাতালে ৪৭৯টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, চট্টগ্রামে হৃদরোগের চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়লেও শুধু চিকিৎসার সংখ্যা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নও জরুরি। এ লক্ষ্যেই সম্মেলনে তরুণ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের জন্য সরাসরি জটিল রোগীর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ, কেস উপস্থাপন এবং সর্বশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষণের প্রথম পর্বে সিএসসিআর ক্যাথল্যাবে জটিল হৃদরোগীর করোনারি ইন্টারভেনশনের লাইভ কেস ডেমোনস্ট্রেশন করা হয়। এতে তরুণ চিকিৎসকেরা সরাসরি জটিল পিসিআই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা কৌশল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান।

পরে নগরের পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উদীয়মান ইন্টারভেনশনিস্টদের পরিচালিত বিভিন্ন জটিল কেস অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি হৃদরোগ চিকিৎসার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রটোকল, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং জটিল পিসিআই কৌশল নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।

সিএসআইসি সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে হৃদরোগের বিভিন্ন ধরনের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা বাড়ছে। তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের আরও দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রোগীর তথ্যভিত্তিক রেজিস্ট্রি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মেন্টর হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামে মোট কেস বাড়লেও কিছু জটিল চিকিৎসা ও রুটিন পিটিসিএর ক্ষেত্রে আরও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তরুণ চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএসসিআই সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান ও জ্যেষ্ঠ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান। ডা. কাজী শামীম আল মামুন, ডা. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং ডা. উম্মেল কুলসুমা নিপার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আবু তারেক ইকবাল, অধ্যাপক ডা. শেখ হাসান মামুন, অধ্যাপক ডা. এম এ রউফ, ডা. এওয়াইএম নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় চট্টগ্রামে আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসার অগ্রগতি, জটিল পিসিআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যতে রোগীসেবার মান আরও উন্নত করার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ