হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার বিচারক ও হিফজ শিক্ষাবোর্ড পরীক্ষকদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও মূল্যায়নের মান উন্নয়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগ (জোন–০১)-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার বিচারক এবং হিফজ শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হাফেজ মাওলানা ইমরান বিন নূরুদ্দীন দা.বা.। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আল-জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মাওলানা ক্বারী আহমদুল হক দা.বা.
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা শিহাব উদ্দিন জুমিরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অর্থ সচিব হাফেজ ক্বারী আনোয়ারুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হযরত হাফেজ ক্বারী এরশাদুল্লাহ তালুকদার।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার বিচারকার্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল তিলাওয়াত শ্রবণ, ভুল নির্ণয়, নম্বর প্রদান, বিচারকের দায়িত্ব ও আমানতদারিতা, পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রতিযোগীদের যথাযথভাবে মূল্যায়নের কৌশল।
প্রশিক্ষণে বিচারকদের নিরপেক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে মূল্যায়ন করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার বিচারকার্যকে আরও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত করার পাশাপাশি হিফজ শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একটি অভিন্ন ও কার্যকর মানদণ্ড প্রতিষ্ঠাই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিচারক ও পরীক্ষকদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অভিন্নতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার সামগ্রিক মান আরও উন্নত হবে।
‘ঐক্যবদ্ধ হুফফাজ • কুরআনের খেদমতে • উম্মাহর কল্যাণে’—এই প্রত্যয়ে হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগ (জোন–০১) তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।