চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ-শেফা হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশেই ফেলা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের পাশে এসব বর্জ্য পড়ে থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশে বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত বর্জ্য পড়ে রয়েছে। বর্জ্যের স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা এসব বর্জ্যের পাশ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত করছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন বর্জ্যের মধ্যে ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য থাকতে পারে। এসব বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া খোলা জায়গায় পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন বর্জ্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অপসারণ না করে বিদ্যালয়ের পাশের স্থানে ফেলা হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থী ও আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “শ্রেণিকক্ষের একেবারে পাশে এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় পরিবেশও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষের পাশে বর্জ্য পড়ে থাকায় প্রায়ই দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। মশা-মাছির উপদ্রবও রয়েছে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করানোর জন্য স্কুলে পাঠানো হয়। অথচ শ্রেণিকক্ষের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য পড়ে থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আশ-শেফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রথমে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে হাসপাতালের পাশে থাকা বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত দে বলেন, “এভাবে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কোনো নিয়ম নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি এভাবে বর্জ্য ফেলে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা এখনই দেখব।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শ্রেণিকক্ষের পাশ থেকে দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালসহ সব ধরনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত তদারক করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।