শিরোনাম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের ইতিহাসে এক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক- জাহাঙ্গীর আলম লোহাগাড়ায় ​আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জায়গা দখল ও হুমকির অভিযোগ ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেকে মাঠে বিজিবি সাতকানিয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি, খুশি যাত্রীরা সাতকানিয়ায় সড়কের পাশে পশুর হাট, তীব্র যানজটে দুর্ভোগে যাত্রী ও রোগীরা কর্ণফুলীর কলেজ বাজারে রেস্টুরেন্ট ঘিরে বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় বাড়ছে উদ্বেগ চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ ঈগল পরিবহন সাতকানিয়া সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল আযহা বুধবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সাতকানিয়ার কামার শিল্পীরা সাতকানিয়ায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের ইতিহাসে এক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক- জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম / ৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী জাতির সামনে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত ও প্রভাবশালী অধ্যায়কে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় রাজনীতি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। তাঁর জীবন, কর্ম এবং আত্মত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, মেধাবী এবং দায়িত্বশীল। শিক্ষাজীবন শেষ করে সামরিক জীবনকে বেছে নেন এবং তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। একজন দক্ষ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে অল্প সময়েই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে জিয়াউর রহমান একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তাঁর নাম দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করে। স্বাধীনতার সেই সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসের আলোচনায় বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সংকট এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সামনে আসেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিনির্ভর উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। দেশের উন্নয়নে উৎপাদনমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বহুদলীয় রাজনীতির প্রসার, জাতীয় ঐক্য, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করে। তাঁর সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়, যার প্রভাব আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার যে চিন্তা পরবর্তীতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) হিসেবে বাস্তব রূপ পায়, সেই উদ্যোগের প্রাথমিক আলোচনায় তাঁর অবদান ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের পরিচিতি ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু ইতিহাসের নির্মম এক অধ্যায়ে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টায় শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলে। পুরো দেশে নেমে আসে শোকের ছায়া। সেই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও একটি আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মৃত্যু শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের বিদায় ছিল না; বরং দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় তা বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

জিয়াউর রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভিন্নতা রয়েছে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কেউ তাঁকে স্বাধীনতার সাহসী সৈনিক ও আধুনিক বাংলাদেশের একজন রূপকার হিসেবে দেখেন, আবার কেউ তাঁর সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেন। তবে ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে এ কথা স্পষ্ট যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, জাতীয় পরিচয় এবং বহুদলীয় রাজনীতির আলোচনায় তাঁর নাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত এবং দেশের জন্য রেখে যাওয়া রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘদিন গবেষণা, মূল্যায়ন ও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের অনেক কিছু বদলায়, কিন্তু কিছু নাম থেকে যায় জাতির স্মৃতির গভীরে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনি এক নাম—বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত, স্মরণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।

—  জাহাঙ্গীর আলম
সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ