শিরোনাম
পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা: অপপ্রচার বন্ধে প্রকৃত কারণ জানাতে প্রেস ব্রিফিংয়ের আহ্বান শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে: জিয়া আবর্জনা হবে সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিনিয়োগের আগ্রহ কর্ণফুলীতে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল পটিয়া প্রেস ক্লাবের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন: সভাপতি নুর হোসেন, সম্পাদক রবিউল হোসেন নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস মেয়র শাহাদাত, এগোচ্ছে পরিবেশবান্ধব মশা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের ইতিহাসে এক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক- জাহাঙ্গীর আলম লোহাগাড়ায় ​আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জায়গা দখল ও হুমকির অভিযোগ
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

আবর্জনা হবে সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিনিয়োগের আগ্রহ

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের সিভিয়া-চায়না হার্বার-অর্চার্ড কনসোর্টিয়াম। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামের আবর্জনা থেকে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাব মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার নগরীর টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন চায়না হার্বার বাংলাদেশের প্রধান, সিভিয়ার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান এবং অর্চার্ড ডেভেলপারস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের প্রধান।

সভায় কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা জানান, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। চীনে তারা ইতোমধ্যে ৪১টি আধুনিক বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করছে। এসব প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে একদিকে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনগরী এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই বর্জ্য পরিবেশের জন্য বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। চট্টগ্রামেও সেই আধুনিক ধারণা বাস্তবায়নের সময় এসেছে। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে নগরীর পরিবেশগত চাপ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।”

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নগরীর সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত বিষয়সমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং নগরবাসীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সভায় সম্ভাব্য প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে উভয়পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির কারিগরি সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব, বিনিয়োগ কাঠামো ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত সমীক্ষা ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

চট্টগ্রামে প্রতিদিন উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি খাতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ